পাবিপ্রবিতে-অর্থ, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী

শিক্ষার মূল লক্ষ্য ভালো মানুষ হওয়া–অর্থমন্ত্রী

(০১/০৩/২০১৫)ঃ স্বাধীনতার মাসের প্রথমদিন আজ রোববার পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সেজেছিল বর্ণিল উৎসবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন নবীন শিক্ষার্থীরা অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত , তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ বরেণ্য রাজনীতিবীদ, শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সান্নিধ্য লাভ করেন । নবীন-বরণ, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাননীয় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, শিক্ষার মূল লক্ষ্য ভালো মানুষ হওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান আহরনের জায়গা। এখান থেকে সবাইকে মূল্যবান নাগরিক হয়ে বের হতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জীবনে এমন কিছু করা যাবে না যার জন্য অন্যের দুঃখ কষ্টের সৃষ্টি হয় । তিনি শিক্ষার্থীদের সহ শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা, দুঃখ কষ্টের মধ্যেও বাংলাদেশ উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালের মধ্যে স্বল্পোন্নত বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। দেশে দারিদ্র্য ও ধনী গরিবের বৈষম্য দিন দিন কমছে। মানুষের জীবন যাত্রার মানের পরিবর্তন হওয়ায় ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। আমাদের সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করতে হবে। তথ্য প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১৩ কোটি লোক মোবাইল ব্যবহার করছে। বাংলাদেশে গার্মেন্টস নিয়ে তেমন সমস্যা নেই। বিনিয়োগ খুবই ভালো অবস্থানে আছে। তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা আছে আমাদের সরকারের।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন বরণ, বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী মহোদয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষক ও পিতা-মাতাকে সম্মান করতে হবে। তাদের সাথে কখনো তর্ক করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে নিজে যেমন আলোকিত মানুষ হবেন তেমনি দেশ ও জাতিকে আলোকিত করবেন। তিনি নারীর অবদান তুলে ধরে বলেন, নারী-পুরুষ পাশাপাশি থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। নারীকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের নতুন পথ দেখিয়ে সদর দরজা খুলে দিয়েছেন। তার দেখানো পথ ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে। ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, আমরা একটি লড়াইয়ের মধ্যে আছি। আর সে লড়াই হলো দেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের। আমরা সামনে এগুতে চাই। আমাদের প্রশিক্ষিত বাহিনী দরকার। আর সে বাহিনী হতে পারে ছাত্র-ছাত্রীরা। আমাদের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, হত্যা- খুন পেট্রোল বোমা মেরে কোন মহৎ উদ্দেশ্য অর্জন করা যায় না । মানুষ পুড়িয়ে মারার রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন করা।

আরেক বিশেষ অতিথি পাবনা-৫ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স বলেন, পাবনায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কারণে আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটছে। পাবনা এখন শিক্ষানগরী। বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি খাতের অগ্রগতির মত শিক্ষারও ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. আল-নকীব চৌধুরী মহোদয় বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয় অচিরেই উত্তরবঙ্গের অক্সফোর্ডে পরিণত হবে। নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে। আধুনিক বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকলে হলে দক্ষ তথ্য প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হতে হবে। প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় অগ্রগতি উন্নয়নে অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে। তিনি অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, সেশনজট মুক্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় আধুনিক শিক্ষার অন্যতম উর্বর ক্ষেত্র।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সম্মানিত সদস্য অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম সাইদুল হক চুন্নু , ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক , পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, প্রক্টর আওয়াল কবির, ছাত্র উপদেষ্টা ড. মোঃ হাবিবুল্লাহ, বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল আলীম , কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান কিসলু নোমান, নবীন শিক্ষার্থী সুমাইয়া পনি।

প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি মহোদয়গণকে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছালে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়গণ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা স্বাধীনতা চত্বরে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এসময় বেলুন ও শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়। নবীনদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। বাংলা বিভাগের প্রথম জার্নাল ‘সাহিত্য গবেষণাপত্র ’ এর মোড়ক উম্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে আন্তঃ বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞান মেলা-২০১৪ এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।#
বার্তা প্রেরক

(মোঃ ফারুক হোসেন চৌধুরী)
সহকারী পরিচালক
জনসংযোগ দপ্তর
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
০১৭১১-৯৪২২১২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>